![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হয়তো ইরানের সঙ্গে প্রতিটি আলাদা আলাদা লড়াইয়ে জিতেছেন, কিন্তু ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিতে হামলা চালানোর তিন মাসের মাথায় তাকে এখন বড় এক প্রশ্নের মুখোমুখি হতেই হচ্ছে—তিনি কি যুদ্ধটিতে হারতে চলেছেন?
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্তৃত্ব, পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড়ে অনীহা এবং তাদের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা মোটাদাগে টিকে যাওয়ায় ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীর কৌশলগত সফলতাগুলোকে আদৌ এমন এক পরিণতি দিতে পারবেন কিনা, যাকে সবাই ভূরাজনৈতিক জয় হিসেবে মেনে নেবে, তা নিয়ে সন্দেহ বেড়েই চলেছে।
এ যুদ্ধে ‘পূর্ণাঙ্গ জয়’ অর্জন করেছেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে দাবি করে যাচ্ছেন তাকে ‘ফাঁকা আওয়াজ’ বলছেন বিশ্লেষকরা। তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়ই এখন অনিশ্চিত কূটনীতি আর ট্রাম্পের ফের হামলা চালানোর হুমকি, পিছু হটা, ফের হুমকি এই চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে।
বলে রাখা ভালো, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরান বসে থাকবে না এবং তারা যে পুরো পশ্চিম এশিয়াজুড়েই যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে সক্ষম তা ২৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী ৪০ দিনেই স্পষ্ট দেখা গেছে।
যুদ্ধপরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় আরব মিত্ররা কৌশলগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, অন্যদিকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রবল মার খাওয়া ইরান বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল-গ্যাস সরবরাহ আটকে দেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়ে তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে আবির্ভূত হতে পারে— ট্রাম্প এখন এমনটা দেখার ঝুঁকির মুখে পড়েছেন বলেও প্রতিবেদনে লিখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সঙ্কটের এখনও ইতি ঘটেনি এবং ট্রাম্প হয়তো আলোচনার ফল নিজের পক্ষে এনে মুখ রক্ষার একটা সুযোগ তৈরিও করতে পারেন, ধারণা অনেক বিশ্লেষকের।
অন্যরা অবশ্য ট্রাম্পের যুদ্ধ-পরবর্তী ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছেন।
“তিন মাস চলছে, ট্রাম্প স্বল্প সময়ে হেসেখেলে জিতবেন এমন ছকে যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল তা এখন দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হতে চলেছে বলেই মনে হচ্ছে,” বলেছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় প্রশাসনের হয়েই পশ্চিম এশিয়ায় বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নেওয়া অ্যারন ডেভিড মিলার।
ট্রাম্পের জন্য এটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট প্রতিনিয়ত প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে যে শব্দ ব্যবহার করে আসছেন, সেই ‘লুজার’ বা ‘হেরে যাওয়া ব্যক্তি’ হিসেবে নিজেকে দেখতে পছন্দ করার কথা নয় তার।
বিশ্বের সবচেয়ে পরাক্রমশালী সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ট্রাম্প ইরানে তার বাহিনীকে নামিয়েছেন তুলনামূলক মাঝারি এক শক্তির বিরুদ্ধে, অথচ তেহরানের ভাব দেখে মনে হচ্ছে—তারাই টেক্কা দিচ্ছে।
এই ‘লুজার’ হওয়ার হাত থেকে বাঁচতেই ট্রাম্প হয়তো তার সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি থেকে পিছু হটতে চাইবেন না, চাইবেন না ২০১৫ সালে ওবামা আমলে হওয়া ইরান পরমাণু চুক্তির মতো কিছুর প্রত্যাবর্তনও, মত বিশ্লেষকদের।
পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম দেওয়ার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞায় ছাড়—আগের ওই চুক্তিটি প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই বাতিল করে দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট যে এখন ইরান নিয়ে ‘উভয় সঙ্কটে’ রয়েছেন তা মানতে নারাজ হোয়াইট হাউস। তাদের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলছেন, ইরানে তারা ‘অপারেশন এপিক ফিউরির’ যে যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিলেন, তার সবই পূরণ হয়েছে। কোথাও কোথাও অর্জন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে সব কার্ড রয়েছে, তিনি বুদ্ধিমানের মতো সব বিকল্প খোলা রেখেছেন,” বলেছেন তিনি।
চাপ ও হতাশা
এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প অপ্রয়োজনীয় কোনো যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্ত সেই তিনিই এখন ওয়াশিংটনকে এমন এক জালে জড়িয়ে ফেলেছেন যা তার পররাষ্ট্রনীতি এবং বিশ্বজুড়ে আস্থায় দীর্ঘস্থায়ী কালি লাগিয়ে দিতে পারে।
ইরান যুদ্ধ দেশের ভেতরেও ট্রাম্পকে বড় বিপাকে ফেলেছে। অজনপ্রিয় এ যুদ্ধ একদিকে পেট্রলের দাম বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে প্রেসিডেন্টের কাজে ভোটারদের অসন্তোষও তীব্র করছে। দুটোই নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেট উভয় কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুই কক্ষেই ট্রাম্পের দল সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ করছে।
যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ইতি ঘটেনি, এদিকে যুদ্ধবিরতিও ছয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। এই অবস্থায় ট্রাম্প পরস্পর বিপরীতমুখী দুটি পছন্দের একটি বেছে নেওয়ার জটিলতায় পড়েছেন বলে ধারণা বেশিরভাগ বিশ্লেষকের।
হয় তাকে তুলনামূলকভাবে ত্রুটিপূর্ণ একটি চুক্তি মেনে নিয়ে বেরিয়ে আসতে হবে নয়তো সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে উত্তেজনা আরও বাড়াতে হবে এবং সঙ্কট আরও দীর্ঘায়িত করার ঝুঁকি নিতে হবে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে গেলে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু স্থাপনায় কয়েক রাউন্ডের তীব্র হামলা চালিয়ে, একে ‘চূড়ান্ত বিজয়’ আখ্যা দিয়েও আপাতত বেরিয়ে আসতে পারেন।
কোনো কোনো বিশ্লেষক অন্য একটি সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। সেটি হল- ইরানে ‘পরাস্ত’ ট্রাম্প নিজের দৃষ্টি কিউবায় সরিয়ে নিতে পারেন। মানুষজন নতুন এ সংঘাতে মত্ত হয়ে আগেরটা ভুলে যাবে এবং তিনিও হয়তো ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটি থেকে সহজ জয় নিয়ে সমর্থকদের তুষ্ট করতে পারবেন।
তবে এমন কিছু করলে সেটার পরিণতিও যে ইরানের মতো হবে না, তার তো নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।
ভেনেজেুয়েলায় এ বছরের শুরুর সপ্তাহেই ট্রাম্প আচমকা এক অভিযান চালিয়ে দেশটির তখনকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। এরপর ওয়াশিংটনও সহজেই লাতিনের দেশটির ক্ষমতাসীনদের ওপর চেপে বসতে পারে।
ইরানেও এমন কিছুই ঘটবে এবং সহজেই তেহরানের ক্ষমতা কাঠামোতে বদল আনা যাবে—২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার আগে ট্রাম্প এমনটাই ভেবেছিলেন বলে ব্যক্তিগত আলোচনায় তার অনেক সহযোগীই স্বীকার করে নিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই ভুল এতদিনে ভাঙার কথা; তাই হাভানার কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থাকে হয়তো তিনি এতটা ‘হালকাভাবে নেবেনও না’, ধারণা অনেকের।
অবশ্য এই অবস্থানেও কেউ কেউ ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দিতে ভুলছেন না।
তার প্রথম মেয়াদে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা, এখন আমেরিকান গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিস কনসালটেন্সির প্রধান নির্বাহী আলেক্সান্ডার গ্রে বলছেন, প্রেসিডেন্টের ইরান অভিযান ‘সুতোর ওপর ঝুলছে’ বলে তিনি মনে করেন না।
তার মতে, ইরানের সামরিক সক্ষমতায় যে জোর ধাক্কা দেওয়া হয়েছে তা-ই একটি বড় ‘কৌশলগত সফলতা’। তাছাড়াও এ যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে, চীনের সঙ্গে তাদের দূরত্ব বেড়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের পক্ষে এলে ট্রাম্প সেটাকেও তার ‘বড় জয়’ হিসেবে প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন।
এদিকে যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে বয়ান, তাতে নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে ট্রাম্পের হতাশারও অনেক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি তার সমালোচকদের ‘ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলছেন’, গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছেন ‘দেশদ্রোহিতার’।
ট্রাম্প ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম যখন ইরানে হামলা চালান, সেসময় এ অভিযানের মেয়াদ সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছিলেন। এখন চলছে দ্বাদশ সপ্তাহ। এ পর্যন্ত তার মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন (মাগা) সমর্থকগোষ্ঠীর বড় অংশকে তার পাশে দেখা গেলেও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের কেউ কেউ এখন তার বিরোধিতায় সরব, কয়েক মাস আগেও যা কল্পনা করা যেত না।
লক্ষ্য এখনও অধরা
যুদ্ধে যাওয়ার সময় ট্রাম্প যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন তার মধ্যে ছিল ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া, পুরো অঞ্চল ও মার্কিন স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে ওঠার সক্ষমতায় ইতি টানা এবং ইরানিদের জন্য কাজ সহজ করে দেওয়া যেন তারা তাদের শাসককে উৎখাত করতে পারে।
এগুলোর একটিও এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়নি, নিকট ভবিষ্যতে হতে পারে এমনটাও মনে করছেন না বেশিরভাগ বিশ্লেষক।
থিঙ্কট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের জনাথন পেইনকফ বলছেন, অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হলেও শাসনকাঠামো টিকিয়ে রাখতে পারায় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌচলাচলের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব তা জানাকে সফলতা হিসেবে দেখতে পারে ইরানি শাসকরা।
অর্থনৈতিক ক্ষতি সহ্য করার ব্যাপারে তারা আত্মবিশ্বাসী, এবং এক্ষেত্রে তারা যে ট্রাম্পের চেয়েও বেশি সময় ধৈর্য ধরে রাখতে পারবে, তা-ই মনে হচ্ছে, বলেছেন পেইনকফ।
ট্রাম্পকে এখন সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে দেখা যাচ্ছে যে লক্ষ্যের দিকে সেটি হলো- ইরানের অ-পারমাণবিকীকরণ। কিন্তু তেহরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে তেমন আগ্রহী মনে হচ্ছে না।
তাদের কাছে উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ যে ইউরেনিয়াম আছে সেগুলো গত বছর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার সময় মাটির নিচে চাপা পড়লেও অক্ষত আছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তেহরান চাইলে সুবিধাজনক সময়ে সেগুলো তুলে তা দিয়ে পারমাণবিক বোমা বানানোর দিকে অগ্রসর হতে পারে।
ইরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ এবং তারা চায়, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারকে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিক।
সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মুজতাবা খামেনি তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না বলে এক ফতোয়া জারি করেছেন, জানিয়েছেন দুই ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা। তার এ ফতোয়া ট্রাম্পের আকাঙ্ক্ষাকে ‘আরও দূরে ঠেলে দিয়েছে’ বলেই মত অনেকের।
কেউ কেউ বলছেন, যুদ্ধের কারণে ইরানের ভেতর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষা কমার বদলে আরও বেড়ে যেতে পারে। পরমাণু অস্ত্র বানিয়ে উত্তর কোরিয়ার মতো তারাও পরাশক্তি বা অন্যান্য হুমকির হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে চাইতে পারে।
ট্রাম্পের আরেক লক্ষ্য ছিল—অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন প্রতিরোধ গোষ্ঠীকে ইরান যে সহায়তা দিয়ে আসছে, তার ইতি টানা। এটাও পূরণ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। লেবাননের হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সঙ্গে টক্কর দিয়েই যাচ্ছে। হামাস অস্ত্র সমর্পণে রাজি হচ্ছে না। হুতিরা ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলেও অনেকে মনে করছেন।
পূর্বসূরীদের তুলনায় ইরানের নতুন নেতারা ‘বেশি কট্টর’ হওয়ায়ও বিপদ বেড়েছে ট্রাম্পের। আগের নেতারা আলোচনায় তুলনামূলক বেশি আগ্রহী ছিলেন, মিত্র ইসরায়েলকে নিয়ে ট্রাম্পই ওই নেতাদের হত্যা করেছেন।
এদিকে যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির পরও তেহরানের হাতে যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন থেকে যাবে বলে মনে হচ্ছে তা দিয়েই তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে চোখ রাঙাতে পারবে।
এ যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপের মিত্রদের সম্পর্কও খারাপ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট একাধিকবার এ মিত্রদের সহায়তা চাইলেও যুদ্ধের আগে তাদের সঙ্গে আলোচনা না করায় ক্ষিপ্ত ইউরোপ তাতে সাড়া দেয়নি।
অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খামতি কোথায় কোথায় তা বুঝে যাচ্ছে; ইরানের কৌশলে ওয়াশিংটন কোথায় কীভাবে ধরা খাচ্ছে, কোন কোন অস্ত্রের মজুদ ফুরিয়ে আসছে সেদিকে মস্কো-বেইজিং তীক্ষ্ণ নজর রাখছে বলেই ধারণা সিংহভাগ বিশ্লেষকের।
থিঙ্কট্যাংক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো রবার্ট কেইগান মনে করছেন, ইরানে হার যুক্তরাষ্ট্রকে ভিয়েতনাম, আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি অপমানের মুখে ফেলবে। কারণ, ওই দুই দেশ ‘বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মূল হুমকি থেকে অনেক অনেক দূরে ছিল’।
“আগের অবস্থায় আর ফেরা হবে না; যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে ওঠার মতো কিছু যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই,” সম্প্রতি আটলান্টিক ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইটে ‘ইরানে কিস্তিমাত’ নিবন্ধে তিনি এমনটাই লিখেছেন।